June 2017
M T W T F S S
« May   Jul »
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

Calendar

June 2017
M T W T F S S
« May   Jul »
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

দূর্বাঘাস

Home/স্বাস্থ্যকথা/দূর্বাঘাস

দূর্বাঘাস

লেখক: নরেশ মধু:
সেই আদিকাল থেকে আজও প্রকৃতির অমূল্য সম্পদকে ঘিরেই আমাদের জীবনচক্র। আমরা বরাবরই নির্ভরশীল প্রকৃতির উপর। প্রকৃতির অফুরন্ত ভান্ডার মানুষ সহ প্রাণীকুলের সকলের সহাবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয়। এজন্য প্রকৃতি যেমন রোগ সৃষ্টির উৎস তেমনি প্রতিষেধক ও প্রতিকারকও বটে। এক সময় আমাদের রোগ নিরাময়ের উপায়াবলি আর ভরসাই ছিল প্রকৃতি নির্ভর। রাজপরিবারের চিকিৎসক ছিলেন বৈদ্যী বা কবিরাজ। তখন আজকের মতো বহুজাতিক চিকিৎসা গ্রহনের সুযোগ ছিলনা। সবই ছিল প্রকৃতি নির্ভর। কালের চাকা আবার ঘুরছে। মানুষ আবার ঘর মুখো হচ্ছে। যে আদিম চিকিৎসা দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু আমরা যেন সেখানেই ফিরে যেতে চাই। ফিরে যেতে চাই অন্য কোন কারনে নয়, সুস্থ-সবল জীবন যাপনের জন্য। আর হ্যাঁ প্রকৃতি আমাদের যে অশেষ অবদান দিয়েছে তা অনেক পরে হলেও আমরা বুঝতে পেরেছি। তাই আমরা এর যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। তাই প্রকৃতির ভান্ডার থেকে ভেষজগুন সম্পন্ন গাছের গুনাগুন পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই হলো আমাদের ‘’ বিভাগের নিয়মিত আয়োজন। যে পাতাগুলো আমাদের হাতের কাছে ও সকলের চেনা, যার ঔষধি গুনাগুন অনেক অথচ আমরা জানিনা কিংবা এর ব্যবহার জানিনা। প্রিয় পাঠক আপনারাও বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদের গুনাগুনের কথা জানিয়ে লিখতে পারেন। আমাদের এবারের বিষয় –‘‘দূর্বাঘাস’’

পরিচিতি : দূর্বা একটি অতি পরিচিতি ঘাস। রাস্তার ধারে পতিত জমিতে প্রচুর জন্মে থাকে। দূর্বা বহুবর্ষজীবি শয়ান লতান বীরুৎ। প্রত্যেক পর্ব থেকে নিচে গুচ্ছমূল এবং ওপরে সবুজ পত্রযুক্ত একগুচ্ছ শাখাও বের হয়। পাতা সরু, লম্বা, সবুজ ও মসৃণ। দুই সারিতে সজ্জিত। দূর্বা চার প্রকার। যথা ঃ (ক) সাধারণ দূর্বা (যে দূর্বা প্রায় সর্বত্র দেখা যায়)। (খ) নীল দূর্বা (গ) শ্বেত দূর্বা ও (ঘ) পন্ড দূর্বা।

ব্যবহার্য অংশ: ঔষধে দূর্বার ঘাস ও মূল ব্যবহার করা হয়। উল্লেখ্য, সকল প্রকার দূর্বাই ঔষধে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। দূর্বার রস পানি ছাড়াই বের হয়। ঘারোয়া ব্যবহার বা বৈদ্যের ব্যবহার ঃচর্মরোগ ঃ এক ছটাক পরিমাণ দূর্বার রস এক পোয়া পরিমাণ তিল তেলে উত্তমরূপে জ্বাল দিয়ে শরীরে মালিশ করলে সকল প্রকার চর্মরোগ আরোগ্য হয়।

পায়োরিয়া: দূর্বা ঘাসের গুড়ো দিয়ে দাঁত মাজলে পায়েরিয়া (দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া) সেরে যায়।
কেটে গেলে: রক্ত পড়া বন্ধ করার জন্য দূর্বার বিশেষ প্রয়োজন। দূর্বা ঘাস বেটে (পানি ব্যতীত) কাটা জায়গায় লাগিয়ে ঐ কাটাস্থানে বেঁধে দিলে অনতিবিলম্বে রক্তপড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং কাটা চামড়া জোড়া লেগে যায়। রক্ত পড়া বন্ধ করার এটি একটি অব্যর্থ ঔষধ।
চুল ওঠা: দূর্বার রস দিয়ে তেল গরম করে সেই তেল মাথায় মাখলে চুল ওঠা বন্ধ হয়।
নাক দিয়ে রক্ত পড়া ঃ দূর্বা পেষণ করে একটি ন্যাকড়া পুঁটলির মধ্যে রেখে তার ঘ্রাণ নিলে অথবা দূর্বা চূর্ণের নস্য গ্রহণ করলে নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।
বমি বমি ভাব বৃদ্ধি পেলে ঃ কোন কারণে গা গোলা, বমি বমি ভাব করলে এক তোলা দূর্বার রস চিনিসহ সেবন করলে বমি বমি ভাব সেরে যায়।
রক্তপিত্ত রোগ ঃ দূর্বার রস কাঁচা দুধের সাথে মিশিয়ে সকাল বিকাল খাওয়ালে রক্তপিত্ত রোগ উপশম হয়। এটি পরিক্ষীত ঔষধ। এক মাস পর্যন্ত এটি সেবন করতে হবে।

মুত্র সংক্রান্ত রোগ ঃ দূর্বার মূল ১০ তোলা পরিমাণ, দুই কেজি পানি সহ মাটির হাঁড়িতে সেদ্ধ করতে হবে, ৫০০ গ্রাম পানি থাকতে হাড়িটি চুলা থেকে নামাতে হবে। পরে ঐ পানি ইষৎ উষ্ণ অবস্থায় মধুসহ সেবন করলে যাবতীয় মূত্ররোগ নিবারিত হয়ে থাকে।
পুরাতন আমাশয়-পুরাতন উদরাময় ঃ পুরাতন আমাশয় এবং পুরাতন উদারাময়েও দূর্বাঘাসের রস উপকারী। এটা মুত্রকার তাই শোথ রোগে বিশেষ হিতকর। এর রস দুধের সাথে খেলে অর্শের রক্তপাত ও মুত্রযন্ত্রের চুলকানি বন্ধ হয় এবং শিকড়ের রস ছানার সাথে খেলে পুরাতন মধুমেহ রোগ আরোগ্য হয়। গেটেবাত ও বাত বেদনায় স্থানীয়ভাবে দূর্বার রস ব্যবহৃত হয়।
স্ত্রীলোকের রক্তস্রাব বন্ধ না হলে অথবা ঋতুস্রাব ছাড়াই রক্ত যেতে থাকলে দুই তোলা মাত্রায় দূর্বার রস চিনিসহ কয়েকবার সেবন করলে স্রাব বন্ধ হয়। ইহা একটি বহু পরীক্ষিত ঔষধ। দূর্বার সাথে আতপ চাল বেটে বড়া বানিয়ে ভাতের সহিত বেশ কিছুদিন খেলে সন্তান লাভ হয় বলে শোনা যায়।

About the Author:

Leave A Comment