July 2017
M T W T F S S
« Jun   Jun »
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Calendar

July 2017
M T W T F S S
« Jun   Jun »
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

নেশার ছোবলে যুব সমাজ

Home/জনসচেতন/নেশার ছোবলে যুব সমাজ

নেশার ছোবলে যুব সমাজ

লেখক: বাদশা ইলিয়াস:    সেদিন একটি জাতীয় দৈনিকে ‘রাজধানীতে মাদকের হাট’ শিরনামে একটি খবর পড়তে গিয়ে সেদিন মাদক আসক্ত মানুষদের কথা ভিশন ভাবে মনে পড়েছিল। যারা এখনও নেশা করছে। ওদের উদ্দেশ্যেই আজকের এই প্রতিবেদন। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ তথা আজকের বিশ্বে নানা অসঙ্গতীর মতো যার প্রভাব সর্বগ্রাসী, তা হলো মাদক। বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ধারায় এ বিশ্বকে যেমন দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে মাদকের ছোবলকেও তেমনি ভাবে ভাগ করা হয়েছে। কী ধনবাদী কী তৃতীয় বিশ্বের দেশ। কেউ এই ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ধনবাদী অর্থনৈতিক দেশের মানুষ অর্থের প্রভাবে নেশাগ্রস্থ হচ্ছে তা বলা যায়। পক্ষান্তরে তৃতীয় বিশ্বের মানুষ বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার সম্প্রদায় নিজেদের দুঃখ বেদনা, না পাওয়ার যন্ত্রনা, প্রিয়জনের ব্যাথ্যা, সর্বপরি বঞ্চনার অভিঘাতে নিজেকে ভুলে থাকার একমাত্র উপায় হিসেবে মাদককেই বেছে নিয়েছে।
মাদক সংক্রান্ত সেদিনের প্রতিবেদনটি ছিল এ রকম, রাজধানী ঢাকায় এমন কোন জায়গা নেই যেখানে মাদক দ্রব্য পাওয়া যায়না। খোদ ঢাকার প্রাণ কেন্দ্রে এখন সন্ধ্যার পরে মাদকের হাট বসে। নেশার উপকরন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইয়াবা,হান্টার ও ক্রাউন দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ঢাকায়। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও পাইকারী মাদক বিক্রেতা। সরাসরি সীমান্তের ওপার থেকে ট্রাক, মোটরগাড়ী,মাইক্রোবাস,টেম্পু ও কভার্ডভ্যান সহ বিভিন্ন যানবাহনে মাদকের চালান রাজধানীতে নিয়ে আসে। তাদের অধীনে রয়েছে আরও শতাধিক নারী। এই মাদকের চালান রাজধানীতে আসার পর তারা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়- বর্তমানে রাজধানীর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে পেঁ’ৗচেছে যে, ফেরি করে এবং পান বিড়ি সিগারেট ও মুদি দোকান কিংবা অনেক ঔষুধের দোকানে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে রাজধানীর ঘরে ঘরে মাদকাসক্ত ছড়িয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশংকা করেছেন। এক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী এলাকা যেখানে মাদকের দাম খুব সস্তা ৩টা কিনলে ১টা ফ্রি কিংবা ২০ টাকায় ফেনসিডিল ও ১০০ টাকায় হিরোইন অথবা স্বল্প মূল্যে বাংলা মদ কিনতে পাওয়া যায় সেখানকার নেশা আসক্তদের বাস্তব চিত্র কি ? তা কি আমরা কেউ ভেবে দেখছি ? সেখানের চিত্র আরও ভয়াবহ। এমনও দৃষ্টান্ত রয়েছে যে, মাতাল স্বামীর অত্যাচারে শত শত সংসার ভেঙ্গে গেছে। আবার ছেলের অত্যাচারে বাড়ী ছেড়েছে মা।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, গত কয়েক মাস আগে ঘুরতে গিয়েছিলাম রাজশাহীর মীরগঞ্জ ও আলাইপুর সীমান্ত এলাকার কালিগ্রামে। সেখানে একজন গৃহবধূ এক সান্তানের জননী জেসমিন (২৬) সম্পর্কে জানলাম। তিনি একজন এনজিও কর্মী সেই কারনে কিছুদিন আগে পাবনায় একটি এনজিওর ট্রেনিংয়ে যান। দুই দিন দুই রাত পর বাড়ী ফিরে এসে দেখেন তার হিরোইন আসক্ত স্বামী মামুন ঘরে তালা দিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছে। এই দুই দিন ধরে তাদের শিশু কণ্যা জেমার কোন খাওয়া দাওয়া নেই। বদ্ধ ঘরের মধ্যে শিশুটি অনাহারে ভয়ে আতংকে কেঁদে কেঁদে মরার মত পড়ে রয়েছে। এ ঘটনা সহ্য করতে না পেরে জেসমিন বাড়ি ফিরে অবশেষে রাগে দুঃখে তার স্বামীকে তালাক দেন। ঐ গ্রামের চল্লিশ বছর বয়স্ক মা মনোয়ারা বেগম জানান, তার ছেলে বাড়ীর হাড়ি, পাতিল, টিভি, ঘরে টাঙ্গানো ফ্যান, কোন কিছু বিক্রয় করতে বাদ রাখেনি। তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েও কোন সংশোধন হয়নি। সম্প্রতি সে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ী এসে সীমান্তের ওপার থেকে আসা বোতল আগের মত না পাওয়ায় বাংলা মদ খেয়ে ঘুর বেড়াচ্ছে। তাই ছেলের অত্যাচারে মনোয়ারা নিজেই অন্যত্র বাড়ী ভাড়া করে বসবাস করছে। এ প্রসঙ্গে ঐ এলাকার জনৈক প্রভাবশালী হাফিজুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এই উপজেলাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় সরকার পরিবর্তনের পূর্ব মুহুর্তে ভারত থেকে প্রচুর পরিমান ফেন্সিডিল সহ অন্যান্য নেশা পাকুড়িয়া, আলাইপুর, ও মীরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। তখন এই এলাকার প্রায় শতাধিক নেশা আসক্ত যুবক খুব কম টাকায় নেশা গুলো পেত। বর্তমানে ভারত থেকে মাদক জাতীয় ঐ সকল উপকরন কম আসায় এর দাম বেড়ে গেছে। আর চাহিদা বেড়ে গেছে দেশীয় তৈরী বাংলা মদের। তিনি বলেন, এখন এলাকার শতকরা প্রায় ৭০/ ৮০ জন বাংলা মদ খাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমনি অসংখ্য মানুষ সীমান্ত এলাকায় নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে এবং দিনের পর দিন তারা নেশা করে যাচ্ছে। এক কথায় পৃথিবীতে নগর সভ্যতার উম্মেষ কাল থেকে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত মাদকের বিষ ছোবলে জর্জরিত হয়েছে মানুষ স্বজ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে। এখানে ধনবাদী অর্থনীতিতে ধনিক শ্রেণীর বনিকরা তৃতীয় বিশ্বে তথা নিজ দেশেই এই বিষ ছোবলকে প্রলন্বিত করে আপন স্বার্থ হাসিলে তৎপর। ফলে শুধু ধনবাদী বা তৃতীয় বিশ্ব নয়, এই মাদক যান্ত্রিক যুগের যন্ত্রনার মতো নানা ফাঁক ফোকড় দিয়ে মানব সভ্যতাকে আস্টে জাপটে ধরেছে।

About the Author:

Leave A Comment